ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউজ ডেস্ক :
প্রকাশিত : ০২:৫০ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Digital Solutions Ltd

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ডায়াবেটিস ছিল, জানতেন না মা-বাবা

প্রকাশিত : ০২:৫০ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিনহাজুল ইসলাম রোজান

নিউজ ডেস্ক :

এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম রোজান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে এর আগে তাঁর ডায়াবেটিস ছিল—এ তথ্য জানতেন না মা-বাবা।

পরিবারের ভাষ্য, ৬ আগস্ট অসুস্থ বোধ করার পর মিনহাজুলকে একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর দুর্বলতা ও শারীরিক অসুস্থতাকে পরীক্ষার চাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই সময় ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা করা হয়নি।

১২ আগস্ট অসুস্থ অবস্থায় রসায়নের ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন মিনহাজুল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে বলে জানান বলে পরিবারের ভাষ্য।

পরদিন ১৩ আগস্ট তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। ওই সময় পরীক্ষায় তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ৩৮ মিলিমোল/লিটারে পৌঁছে যায়। তখনই মা-বাবা জানতে পারেন, তাঁদের ছেলের আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে ২৩ আগস্ট চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানালে শেষ পর্যন্ত আর বিদেশে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই দিনই মিনহাজুলের মৃত্যু হয়।

মিনহাজুলের মা ফাহমিদা আক্তার বলেন, ছেলে ছোটবেলা থেকেই ভালো ছাত্র ছিল। এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন নেতৃত্ব ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। তাঁর ভাষ্য, জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য পরিবার থেকে ছেলের ওপর কোনো চাপ ছিল না; বরং সে নিজেই নিজের জন্য কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণ করত।

পরিবার জানায়, পরীক্ষার ফল নিয়ে মিনহাজুলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন পরীক্ষার পর সে নিজের পরীক্ষা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করত এবং পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও চিন্তিত থাকত।

ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ মোহনা জামানের মতে, তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ইনসুলিনের ঘাটতি বেশি হলে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে পানিশূন্যতা, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সব সময় অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো প্রচলিত উপসর্গ নাও থাকতে পারে। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা আচরণে অস্বাভাবিকতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২৩ আগস্ট সকালে চিকিৎসকের কাছ থেকে তাঁর অবস্থার অবনতির খবর পান। এরপরই মিনহাজুলের মৃত্যু হয়।

মা ফাহমিদা আক্তারের আক্ষেপ, হাসপাতালে নেওয়ার পর যদি আগে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা যেত এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হতো, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

 Somoyer Kotha
Follow Us

হাউজ# ১৩, মেইন রোড, ব্লক-সি, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া

নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com

২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com