সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হত্যা মামলার এক আসামির কবরস্থানসংলগ্ন জঙ্গলে অবস্থানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক পরিচয় দিয়ে সেখানে অবস্থান করলেও তার আস্তানাকে ঘিরে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া বর্তমানে বসবাস এলাকার একটি পুরোনো কবরস্থানের পাশে গড়ে তোলা একটি অস্থায়ী কাঠামোয় বসবাস করছেন। বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে নির্মিত ওই স্থাপনাটি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাথায় পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করায় অনেকেই তাকে ‘পীর’ হিসেবে পরিচিত হতে দেখেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। কয়েক বছর আগে সংঘটিত ওই ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কবরস্থানসংলগ্ন ওই স্থানে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনা বাড়ে। এতে মাদকসেবন ও অন্যান্য সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে কবরস্থানের পরিবেশ রক্ষা, সরকারি বা ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, গয়াছ মিয়ার উপস্থিতির কারণে অনেকেই ওই পথ দিয়ে চলাচলে অস্বস্তি বোধ করছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়াছ মিয়া। তার দাবি, তিনি কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত কারণেই তিনি ওই স্থানে অবস্থান করছেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন, পারিবারিক নানা জটিলতায় নিজ বাড়িতে থাকতে না পেরে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, অতীতের হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গয়াছ মিয়া জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, গয়াছ মিয়াকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com