"আজ পবিত্র শবে বরাত"
শুক্রবার ১লা ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৫ শাবান ১৪৪৬ হিজরী রমজানের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে এসেছে পবিত্র শবে বরাত। আজ শুক্রবার দিবাগত রাতে পালিত হবে লাইলাতুল বরাত। ফার্সি শব্দগুচ্ছ ‘শবে বরাত’ অর্থ ভাগ্যরজনী। তবে বিভিন্ন হাদিসে এই রাতকে মধ্য শাবানের রাত। অনেক হাদিসে এই রাতকে ক্ষমার রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন শবে বরাতে। মৃত স্বজনের কবর জিয়ারত করেন।
এ উপলক্ষে শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর থেকে ফজর পর্যন্ত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে হবে বিশেষ দোয়া ও বয়ান। ওয়াজ করবেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। প্রতিটি মসজিদে দোয়া ও বয়ান করা হয় শবে বরাতে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।
শবে বরাত উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার সরকারি ছুটি। ওই দিন সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না। তবে সংবাদপত্রগুলোতে আজ প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ নিবন্ধ। সরকারি-বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।
১. শবে বরাত সম্পর্কে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি
কিছু মুফাসসিরে কুরআন মনে করেন, সূরা আদ-দুখানের আয়াত—
“ফীহা ইউফরাকু কুল্লু আমরিন হাকীম”
(এই রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।) (সূরা আদ-দুখান: ৪)
—এই আয়াতে ‘লাইলাতুল বরাত’ বা শবে বরাতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ তাফসিরবিদের মতে, এখানে লাইলাতুল কদরের কথা বোঝানো হয়েছে, কারণ তাকদিরের লিখন সংক্রান্ত বিষয় কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী লাইলাতুল কদরেই নির্ধারিত হয়।
শবে বরাতের রাতে ভাগ্য নির্ধারণ হয়—এমন কথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে সঠিক নয়। অনেকেই ভুলবশত মনে করেন যে, এই রাতে মানুষের ভবিষ্যৎ, রিজিক, আয়ু ও ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কুরআন ও তাফসিরের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভাগ্য নির্ধারণ হয় লাইলাতুল কদরের রাতে, শবে বরাতে নয়।
২. শবে বরাতের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলের স. হাদিস হাদীস
কিছু সহীহ হাদীসে শবে বরাতের গুরুত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ বলেন:
“যখন শাবান মাসের মধ্যরাত আসে, তখন আল্লাহ আসমান-দুনিয়ার দিকে তাকান এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ছাড়া সকলের গুনাহ মাফ করে দেন।” (ইবনে মাজাহ: ১৩৯০)
এই হাদীসের আলোকে বোঝা যায়, শবে বরাত গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভের একটি সুযোগ। তবে এ রাতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ইবাদতের নির্দেশনা নেই।
শবে বরাতের সুন্নতি আমল
১. তওবা ও ইস্তেগফার:
এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা সুন্নত।
এ রাতে তওবা ও ইস্তেগফার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে তার বান্দাদের প্রতি রহমত অবতীর্ণ করেন এবং যাদের গুনাহ থাকে, তাদেরকে ক্ষমা করেন। এই রাতের বিশেষ ফজিলত ও তওবা-ইস্তেগফারের গুরুত্ব নিয়ে কিছু হাদীস রয়েছে:
“শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তায়ালা আসমানী দরবারে উপস্থিত হন এবং বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কাছে দোয়া করবে, আমি তাকে দোয়া দেব। যে ব্যক্তি ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ ” (ইবনে মাজা, হাদীস ১৩৮৯)
এ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তায়ালা আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং বলেন, ‘কেউ কি আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?’ ” (তিরমিজি, হাদীস ৩৫৭৯)
২. নফল নামাজ:
নবী (সা.) বলেছেন, “শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমত প্রেরণ করেন এবং দোয়া গ্রহণ করেন” (তিরমিজি, হাদীস ৭৩৯)।
বিশেষ কোনো নামাজের নির্দিষ্টতা ছাড়াই সাধারণ নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। রাসূল সালাতুল তাসবীহ আদায় করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের সারা বছর এটি পড়ার সময় ও সুযোগ হয়ে ওঠে না, এজন্য এ রাতটি সালাতুত তাসবিহের জন্য একটি উপযুক্ত সময়।
সালাতুত তাসবীহ নামাজ সম্পর্কে একটি বিখ্যাত হাদিস:
আব্বাস রাজিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেন –
“হে চাচা! আমি কি তোমাকে দান করব না? আমি কি তোমাকে উপহার দেব না? আমি কি তোমাকে কিছু শিখাব না? তুমি যদি এটি পালন করো, তাহলে আল্লাহ তোমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন—আগের ও পরের, ছোট ও বড়, গোপন ও প্রকাশ্য।”
(আবু দাউদ: ১২৯৭, তিরমিজি: ৪৮১, ইবনে মাজাহ: ১৩৮০)
রাসূল তার চাচা আব্বাস (রাযি.)-কে সালাতুত তাসবীহ নামাজের শিক্ষা দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই নামাজ দ্বারা সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
৩. কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া:
এই রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেছেন “সর্বোত্তম ইবাদত হল কুরআন তিলাওয়াত করা।”- ইবনে মাজা (হাদীস ৩৭৯০)
“যে ব্যক্তি রাতে কুরআন তিলাওয়াত করবে, তার জন্য আল্লাহ প্রতিটি বর্ণের জন্য এক এক ধরণের নেকী লিখে দেন।” (মুসলিম, হাদীস ৮০৪)
৪.তাহাজ্জুদ নামায:
শবে বরাতের রাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়া বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
আল্লাহ বলেন, “রাত্রে তাহাজ্জুদ পড়, এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত মর্যাদা দান করবে” (আল-ইসরা, ১৭:৭৯)।
৪. শরিয়তসম্মত ইবাদত:
বিদআত ও কুসংস্কার পরিহার করে রাসূল প্রদত্ত আমলগুলো পালন করা উচিত।
শবে বরাতের ফজিলতসমূহ
১. আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা: আল্লাহ এই রাতে তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত প্রেরণ করেন এবং যারা ক্ষমা চায়, তাদের গুনাহ মাফ করেন।(ইবনে মাজা, হাদীস ১৩৮৯)
২. দোয়া কবুল: এ রাতে আল্লাহ তায়ালা যাদের দোয়া করেন, তাদের দোয়া কবুল করেন।(তিরমিজি, হাদীস ৩৫৭৯)
৩. গুনাহ মাফ: শবে বরাতের রাতে যারা তওবা করেন, আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দেন।
(আল-বুখারি, হাদীস ১৮৩৫)
৪. জান্নাতের প্রাপ্তি: এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের মাফ করেন, ফলে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। (তিরমিজি, হাদীস ৩৫৮১)
বিদআতের বেড়াজাল: শবে বরাত নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার
১. শবে বরাতের নির্দিষ্ট নামাজ
কিছু মানুষ মনে করেন, শবে বরাতের রাতে ১০০ রাকাত নামাজ পড়া বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক
মোজাম্মেল দিলন
প্রকাশক
সবার কথা মিডিয়া লিমিটেড
সবার কথা মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০২২২৪৪০৬০৭০
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০২২২৪৪০৬০৭০
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com