ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার, ২০২০ || ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

ভালো নেই উপকূলীয় এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা

ক্যাটাগরি : সবারকথা বিশেষ প্রকাশিত: ২২৯৬ঘণ্টা পূর্বে   ১১১


ভালো নেই উপকূলীয় এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা

শেখ রাফসান মোংলা  প্রতিনিধিঃ করোনার ছোবলে স্বাভাবিক জীবন ধারার খে হারিয়ে ফেলেছে সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৭১০ কিমি. সমুদ্র তটরেখায় বসবাসরত নিম্ম-নিম্মমধ্যম অায়ের সাধারন মানুষগন। এই সমস্ত এলকায় বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ জেলে-নির্মানশ্রমিক, কাঠমিস্ত্রী, নৌকা নির্মাতা, ছুতোর সহ ছোটখাটো পেশার সাথে জড়িত।অায় ও সাধারন মানুষের থেকে কম। 

করোনার ভয়াবহ ছোবলে বিপদগ্রস্থ অাছে এই সমস্ত সাধারন পেশার মানুষগুলো। অায়ের পথ একেবারেই বন্ধ।ফলে অভাব অনাটন -ধার দেনা করে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এমন ও দিন যাচ্ছে অনেকের ঘরের চুলা জ্বলছে না। 

অাবার করোনার ভেতরই ভয়াবহ সুপার সাইক্লোন অাম্পানের অাঘাতে বিধস্ত পুরো উপকূলীয় এলাকা। বেড়িবাধ ভেঙ্গে পানি বন্দি ছিলো অনেক মানুষ।এমনও স্থান অাছে যেখানে অাম্পান অাঘাত হানার প্রায় ২৫-৩০ দিন পর পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে।ক্ষতি হয়েছে অসংখ্য কাচা বাড়ির। এযেন করোনার ভেতর মড়ার ওপর খাড়ার ঘা। 

করোনা ভাইরাস ও ঘুর্নিঝড় অাম্পানের দ্বৈত তান্তবে উপকূলের সাধারন মানুষ দিশেহারা। অায়ের প্রধান উৎস হিসেবে যারা সমুদ্রকে ব্যাবহার করে (ট্রলার বা যৌযান মালিক,ট্রলার চালক,জেলে, মাছ ব্যাবসায়ী, ট্রলার বা বোট নির্মাতা ও মেরামতকারী) তাদের সকলের অায়ের খাত বন্ধ প্রায়।

যারা বড়বড় মাছ ব্যবসায়ী তারা অনেকে অাগে সংরক্ষিত মাছ দিয়ে ব্যবসা করছে কিন্তু এখানেও বিপদে পাটে বসে বিক্রি করা খুচরা মাছ ব্যাবসায়ীরা। অনেকের ই ব্যাবসায় টানাপোড়া।

সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবার মত দুঃসাহস করছে না কেউ।বোট চলাচল বন্ধ থাকায় বোট নির্মান ও মেরামতকারীদের ও হাতে কাজ নেই বললে চলে।খেয়া পারাপারেও রয়েছে সামাজিক দুরত্ব মানার বিধি নিশেধ।

শুধু সমুদ্র সম্পর্কিত নয়,ভালো নেই স্থল ভাগেরও অনেক শ্রেনির  কর্মজীবী।ভাষমান চানচুর-ঝালমুড়ি-ফুচকা বিক্রেতারা এখন অদৃশ্যপ্রায়।অনেকেরই দেখা মেলে না।অন্য কাজের সন্ধানে ছুটছে অনেকেই। 

এদিকে সরকার কতৃক বরাদ্ধকৃত রিলিফ, ত্রান বিতরনে  অনিয়ম থাকার কারনে এগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ।

উপকূল জেলা বাগেরহাটে বসবাসরত বিভিন্ন  সম্প্রদায়ের সাথে কথা বললে,খুচরা মাছ ব্যাবসায়ী ইউনুছ অালী বলেন, অামরা হাটে হাটে মাছ বিক্রি করি, কিন্তু হাট অাগের মত জমে না। বেচাকেনাও ভালো না।সময়ের ভেতর সবকিছু শেষ করতে হয়।অাবার বাজরে অাগের মত সামুদ্রিক মাছ নেই,যা অাছে তাও চড়া দামে। 

জেলে সম্প্রদায়ের ঈশা নামের এক জেলে জানায়, অামাদের কাজ সমুদ্র থেকে মাছ অাহরন করা, কিন্তু করোনার কারনে অামাদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।অামরা অনেকেই অার্থিক ক্ষতি ও জীবন শঙ্কায় অাছি।

নৌকা ও ট্রলার মেরামতকারী ডকে কর্মরত অমিত মিস্ত্রী জানান, নৌকা, ট্রলার অাগেরমত চলে না,যার ফলে অামাদের হাতেও কাজ কম।কিছু নৌকা ট্রলার অাসে রং এবং মেরামত করতে যাতে অায়ের হার কম।এই খুব সামন্য অায় দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য।

এদিকে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত গৃহিনীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক লোকালয় পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো। যার ফলে অনেকের রান্নাঘর পর্যন্ত ডুবে গেছিলো। চুলা এবং ঘর নষ্ট হয়ে যায়।ঘর পুনঃনির্মান না করলে ব্যাবহার অনুপোযোগী।অাবার করোনায় অায় ও বন্ধ।সন্তান সন্ততি নিয়ে খেয়ে পরে বাচাই এখন চ্যালেঞ্চ হয়ে দাড়িযেছে।

অার্থিক সংকটের কারনে চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছেনা নিম্মবিত্ত মানুষের ঘরে।

একেরপর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারপর অাবার মহামারি উপকূলবাসীর জন্য যেন মৃত্যুদুত।দিন এনে দিন খাওয়া যাদের কাজ তারা কেমন করে কাজ বন্ধ করে বেচে থাকবে?

সামাজিক দুরত্ব ও  পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকিউবমেন্ট (PPE) তাদের কাছে অনেকটা দুর্বোধ্য বস্তু।তাদের সম্বল শুধুমাত্র সাবান ও কমদামি মাক্স।যার ফলে ভয়াবহ ঝুকিতে অাছে প্রান্তিক অঞ্চল। অায় বন্ধ থাকায় অনেকেই বাইরে ঘুরছে কাজের সন্ধানে। যা অারো বিপদজনক।

করোনায় ভালো নেই উপকূলবাসী,যেন জীবন মরন যুদ্ধে নেমেছে তারা।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: