ঢাকা, ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

খেলারাম তুই খেলে যা।

ক্যাটাগরি : মুক্তমত প্রকাশিত: ৩৫৮ঘণ্টা পূর্বে   ৭৩


খেলারাম তুই খেলে যা।

গোলাম মোস্তফা : কলাম লেখক ও সাংবাদিক 

আলুর দাম আকাশ ছোঁয়ার পর জানা যায় করোনার ত্রাণ হিসাবে স্টকের আলু সব বিতরণ করা হয়েছিলো,পেঁয়াজ,কাঁচা মরিচ সেঞ্চুরি,ডাবল সেঞ্চুরি করার পর জানা যায় ওগুলো পাশের দেশ থেকে সময়মতো আসার কথা ছিলো।ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের পর জানা যায় কর্ম সম্পাদনের আগে বিয়ের প্রলোভন ছিলো।

কাঁচা মরিচের ঝাল কমার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।দৃশ্যত কাঁচামরিচের সঙ্গী হয়েছে করলা ও আলু।কাঁচালঙ্কার মূল্য আবার ২শ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।এক কথায় সবজির মূল্য নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।একটি পরিবার কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনকে নির্বাহ করবে তা নির্ভর করে তাদের আয়,চাহিদা এবং দ্রব্যমূল্যের ওপর।প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের মূল্য যখন সহনীয় পর্যায়ে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে,তখন তাদের জীবন কাটে স্বস্তিতে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যখন সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যায়,তখন দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র পরিবারে শুরু হয় অশান্তি।জনজীবনে নেমে আসে কষ্টের কালো ছায়া।

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা।আর এ মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্নের প্রয়োজন সর্বাগ্রে।কিন্তু
খাদ্যদ্রব্য,চাল,ডাল,তেল,লবণ,মরিচ,পেঁয়াজ
রসুন,মাছ,তরকারি,চিনি,দুধ ইত্যাদি নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি জনজীবনের গতিকে অচল ও আড়ষ্ট করে তোলে।

ন্যায়সঙ্গত মূল্য বলতে বর্তমানে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঘোড়া জনগণকে হতাশার রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি বাড়ছে বাসাভাড়া,পরিবহন-ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ব্যয়। সরকারি-বেসরকারি সেবার দামও বাড়ছে।সেই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের আয়।ফলে জীবনযাত্রার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

জনজীবন আজ বিপর্যস্ত,দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বুভুক্ষু মানুষকে অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য করছে। মানুষের একটু ভালোভাবে বাঁচার দাবি আজ সর্বত্র।কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তাদের প্রতিকূলে।সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমাকে অতিক্রম করে অশ্বগতিতে বেড়ে চলছে ব্যয়ের খাত। এরূপ হারে পানির বিল,গ্যাস বিল, জ্বালানি তেলের মূল্য ও দ্রব্যমূল্যের অতিরিক্ত খরচ জনগণের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।আর নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিই মূল্যের এরূপ বৃদ্ধিতে অসহায় ও নিরুপায় হয়ে পড়েছে।অথচ তারাই মূল্যবোধ দিয়ে সমাজকে ধরে রাখে;তারাই গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে।

 জনগণ আশা করছেন-তাদের এরূপ অবস্থার উন্নতি হবে,দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের মূল্য কমবে।কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।বাজারের ওপর সরকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কি ব্যর্থ হচ্ছে- বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এমন প্রশ্ন দাঁড়ায়।অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে যাচ্ছেতাই কান্ডকীর্তি চালাতে না পারে, তাগিদ ইতোমধ্যে বহুবার নানা মহল থেকে এসেছে।কিন্তু এ ব্যাপারে আশানুরূপ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কোথাও স্বস্তি নেই মানুষের।একের পর এক ঘটনা-দুর্ঘটনায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।একদিকে করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত জনজীবন,তার ওপর দেশব্যাপী চলমান-ঘটমান নানা অস্থিরতায় নাকাল হয়ে পড়ছে মানুষ। মহামারি করোনার কারণে জীবন নিয়ে উদ্বেগ,ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিবাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তা,সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা,সমাজের ঘৃণ্য কিছু লোকের কবলে পড়ে মান-সম্মান ও ইজ্জত-আব্রু হারানোর শঙ্কা,চোর-ডাকাত আর প্রতারক-বাটপারদের খপ্পরে পড়ে সহায়-সম্পদ হারানোর আতঙ্ক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, 

মানব পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে জানমাল খুইয়ে পথে বসার মতো নানা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার হওয়ার ভয়ে দেশের মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।এসব অস্থিরতা মানুষকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে, যেন এর থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ নেই।বর্তমানে দেশের মানুষকে যে ৪টি অস্থিরতা একেবারে নাকাল করে ফেলছে,সেগুলো হলো করোনাভাইরাস, ধর্ষণ,প্রতারণা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।মানুষ এক দুর্বিষহ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে একপ্রকার বাধ্যই হচ্ছে।

চুক্তির পর জানা যায় হাসপাতালে লাইসেন্স নাই।রোগীর মৃত্যুর পর জানা যায় ডাক্তার ভুয়া।আগুন লাগার পর জানা যায় ভবনের নকশায় ত্রু টি ছিল। দুর্ঘটনার পর জানা যায় গাড়ি বা লঞ্চের ফিটনেস নেই।শেয়ারবাজার বা ব্যাংক লুট হওয়ার পর জানা যায় কোম্পানি ভুয়া।খাল বিল ভরাট করে প্লট বিক্রির পর জানা যায় অনুমোদন ছিল না। ফ্লাইওভার-ব্রিজ তৈরির পর জানা যায় নকশায় ভুল ছিল।সাজা ভোগের পর জানা যায় আসামি আসল ছিল না। কোটি মানুষ খাওয়ার পর জানা যায় পণ্যে ভেজাল ছিল।লুটেপুটে বিদেশ পালানোর পর জানা যায় কোম্পানি হায় হায় ছিল চলছে চলুক.”খেলারাম তুই খেলে যা।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: