ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ৯ আশ্বিন ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার বিপরীতে সাংবাদিক ও লেখক চরিত্রে ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর

ক্যাটাগরি : বিনোদন প্রকাশিত: ২৪৬৮ঘণ্টা পূর্বে   ১৯৩৭


হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার বিপরীতে সাংবাদিক ও লেখক চরিত্রে ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর

ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, বর্তমান সময়ের একজন দর্শকনন্দিত অভিনয়শিল্পী। তিনি একাধারে অভিনয় করছেন সিনেমা, নাটক এবং টিভিসিতে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয় করেছেন প্রিয়ন্তী এডিট এবং ইফেক্ট প্রযোজিত “হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এখন ঢাকায়” নামক একটি ধারাবাহিক নাটকে। এই নাটকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভার্সাটাইল অভিনেতা মোশাররফ করিম। গুণি অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম অভিনয় করেছেন ঢাকার মেয়র চরিত্রে। এছাড়াও নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন, আরফান আহমেদ, এলেন শুভ্র, নাযিয়া হক অর্ষা, নাদিয়া আফরিন মিম, শফিক খান দিলুসহ আরও অনেকে। এই নাটকটি এবং করোনাকালীন শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সবার কথার সাথে কথা বলেছেন ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর। 

সবারকথা:  কেমন আছেন? 
ঊর্মিলা:  ভালো। 


সবার কথা: করোনা পুরো পৃথিবীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রাকে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশ তথা সারা পৃথিবীর শিল্পী সংস্কৃতির অঙ্গনেও তার প্রভাব পড়েছে। এবিষয়ে আপনার অভিমত কী.?


ঊর্মিলা : আসলে ওয়ার্ল্ডওয়াইড একটা বাজে ইমপ্যাক্ট পড়ছে আমাদের কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু বাইরের অনেকগুলো জায়গাতে অলরেডি শুটিং স্টার্ট হয়ে গেছে। দেশের বাইরে ইন্টারন্যাশনাল মেক্সিমাম প্রজেক্টের জন্যই কিন্তু ওরা ওলরেডি কাজ করা স্টার্ট করে দিয়েছে। আমাদের দেশে একটু বাজে সিচুয়েশন যাচ্ছে। যে কারণে আমরা এতদিন কাজ করতে পারিনি। কিন্তু এখন আমরা ওলরেডি কাজ শুরু করেছি। রোজার ইদে একটা ঝামেলা গেল। কোরবানির ইদে আমরা বড় ধরনের একটা কাজ শুরু করেছি। আর যেহেতু এটা একটা প্যানডেমিক সিচ্যুয়েশন, অল ওভার, পুরো ওয়াল্ডেই একটা বাজে সিচুয়েশনে চলছে। সাময়িক এই ক্ষতি যেহেতু সব সেক্টরেই হচ্ছে, সেহেতু এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে, কিছু করার নেই।


সবারকথা: সরকার সাধারণ ছুটি তুলে নিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রচেষ্টা সবার মধ্যেই। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নেমে শুটিং শুরু হয়েছে। আপনি কী মনে করেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নাটকের শুটিং করা সম্ভব.? 


ঊর্মিলা : স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছুই করা সম্ভব। নাটকের শুটিংও করা সম্ভব। কিন্তু নাটকে যেহেতু অনেক সময় অনেক আর্টিস্ট নিয়ে কাজ হয় এবং আমাদের অনেক ইন্টিমেট সীন থাকে, সেক্ষেত্র এটা মেইনটেইন করা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে আমি যে সেটেই কাজ করতে গিয়েছি, সেই সেটেই যাওয়ার আগে ডিরেক্টরের সাথে ডিটেইলস কথা হয়েছে এবং যেইসব সেটে প্রপারভাবে সোশাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে কাজ করা হচ্ছে, কেবল মাত্র সেইসব সেটেই কাজ করছি। 


সবারকথা:  এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, ইদানীং কিছু ওয়েব সিরিজে গল্পের চেয়ে যৌনতাকে বেশি প্রাধন্য দেওয়া হচ্ছে। যেটাকে অনেকে সিনেমার অশ্লীল যুগের সাথে তুলনা করছেন, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী.?


 ঊর্মিলা : এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। 

সবারকথা:  অতি সাম্প্রতিক আপনি একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকের নাম "হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এখন ঢাকায়"। যেখানে আপনি লেখক এবং সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন... 


ঊর্মিলা : এই নাটকের গল্পটা অনেক ভালো। নাটকে আমার ক্যারেক্টারটা আমার ভালো লেগেছে। আমি একটা জার্নালিস্টের ক্যারেক্টার করেছি। আমি এই নাটকটি নিয়ে যতগুলো ইন্টারভিউ দিয়েছি সবাইকে একটা কথা বলার চেষ্টা করেছি, এই ক্যারেক্টারটা করার জন্য আমি কিছু স্পেশাল প্রিপারেশন নিয়েছি, আমার পরিচিত জার্নালিস্ট যারা আছেন, তাদের কাছ সাথে কিছু আইডিয়া শেয়ার করেছি, সাজেশন নিয়েছি, প্লাস আমি নিজেও ভিজ্যুয়াললি চেষ্টা করেছি জার্নালিস্টরা নর্মাললি কাজটা কীভাবে করেন সেটা বোঝার,  যাদের (পরিচিত সাংবাদিক)  আমি চিনি তাদের লাইফ স্টাইল বা টকিং কীরকম থাকে, সেগুলো আমি গাইডলাইন হিসেবে মাথায় রেখে ক্যারেক্টারটা পোট্রে করেছি। এর আগেও অপূর্ব ভাইয়ের বিপরীতে একটা নাটকে জার্নালিস্ট ক্যারেক্টার করেছি। আমি কাজটা করার সময় মাথায় রেখেছি, দুটো নাটকের ক্যারেক্টার যেন এক হয়ে না যায়। এই নাটকে আমি নিজেকে সম্পূর্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। 


এবিষয়ে আমরা কথা বলেছি নাটকটির প্রযোজক মনোয়ার হোসেন পাঠান এবং নির্মাতা আশরাফুজ্জামানের সাথে। প্রযোজক বলেছেন, “এই নাটকটি প্রযোজনা করার কারণ এর গল্প। এখানে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে ভ‚মিকা রাখবে। এখানে মোশাররফ করিম হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি এখানে অনেকটা সুপার হিরোর মতো, ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ গড়ে তুলতে ভ‚মিকা রাখবেন। এখানে শহিদুজ্জামান সেলিম মেয়র চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার চরিত্র এখানে পজিটিভ।”

নির্মাতা আশরাফুজ্জামান বলেন, “ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর কাজের প্রতি অনেক আন্তরিক। তিনি নাটকে তার চরিত্রটিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।” আর নাটকের গল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রূপকথার গল্প বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার উদ্দেশ্য মানুষের মনে সুপ্ত থাকা নৈতিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করা, কারণ নৈতিকতা চর্চার বিষয়। রূপকথার চরিত্রগুলো এখানে শুধু মাত্র উপাদান, আমার উদ্দেশ্য ঢাকার মানুষের সুখ দুখের গল্প বলা। যে গল্প মানুষকে হাসাবে, কাঁদাবে এবং ভাবাবে, আবার কখনো কখনো হয়ে উঠবে কারও কারও জীবনের গল্প।” 
প্রযোজক জানিয়েছেন, শীঘ্রই নাটকটি একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: