ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার, ২০২০ || ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

১৩ সেপ্টেম্বর : হায়দ্রাবাদ গণহত্যা

ক্যাটাগরি : ফিচার প্রকাশিত: ৩৫০ঘণ্টা পূর্বে   ৩৫


১৩ সেপ্টেম্বর : হায়দ্রাবাদ গণহত্যা

 

অপারেশন পোলো জানতে গেলে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি তার একটি হচ্ছে উসমানিস্থান কী? উসমানিস্তান হচ্ছে চৌধুরী রহমত আলি কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিকল্পনা। ব্রিটিশ ভারতের হায়দ্রাবাদ রাজ্য নিয়ে এই রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগের পূর্বে ভারতে স্বাধীন রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল, এগুলোর সংখ্যা ছিল পাঁচশো-এরও অধিক। তবে ভারত ভাগের পর গঠিত নতুন ডমিনিয়ন পাকিস্তান বা ভারতের যেকোনো একটিতে তাদের যোগদানের সুযোগ দেয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর স্বাধীন থাকার সুযোগ ছিল। হায়দ্রাবাদের নিজাম উসমান আলি খান প্রথমে কোনো রাষ্ট্রে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হায়দ্রাবাদকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। ঐতিহাসিকগণ এক্ষেত্রে একমত যে, শেষ ইংরেজ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন এসব রাজ্যের স্বাধীনতায় আগ্রহী ছিলেন, এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু-ও রাজ্যগুলোর ইচ্ছেমতো ভারতের যোগদানের বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন। তবে এক্ষেত্রে প্রধান বাঁধ সাধেন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট বল্লভভাই প্যাটেল, এবং তিনি ভারত পরিবেষ্টিত হায়দ্রাবাদকে স্বাধীনতা দিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। হায়দ্রাবাদ আন্তর্জাতিক মহল থেকে, তথা জাতিসংঘ থেকে স্বাধীনতা চাইলেও সেসময়ে তা গৃহীত হয় নি। উপরন্তু বল্লভভাই প্যাটেল মিলিটারি আক্রমণ চালিয়ে, অর্থাৎ জোর করে হলেও হায়দ্রাবাদ দখলে আগ্রহী ছিলেন।

 হিন্দু অধ্যুষিত অথচ মুসলিম শাসিত এই রাজ্যের তৎকালীন আয়তন যুক্তরাজ্যের চেয়ে কম নয় এবং বর্তমানের ছত্রিশগড়, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাটসহ অনেক জেলা বা প্রদেশ পূর্বের হায়দ্রাবাদের অংশ। হায়দ্রাবাদ চতুর্দিক থেকে ভারত কর্তৃক আবদ্ধ ছিল এবং এর কোনো সমুদ্র সীমা ছিল না। তাই স্বাধীন হায়দ্রাবাদ ভারতের পক্ষে সুবিধাজনক ছিল না। অবশেষে বল্লভভাই প্যাটেলের নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদ আক্রমণ করে। বিজেপি সমর্থিত বা পুষ্ট ঐতিহাসিকদের মতে, হায়দ্রাবাদে চালানো এই সামরিক অভিযান জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এক্ষেত্রে তারা নিজামের নিজস্ব বাহিনির (রাজাকার নামে পরিচিত) হিন্দু-নিষ্পেষণের দিক তুলে ধরে, যার আদতে কোনো ভিত্তি নেই। অপরদিকে অন্য ঐতিহাসিকেরা একে মানবতার চরম অবক্ষয় হিসেবে তুলে ধরেন। বিজেপিপন্থী বা ভারত-জাতীয়তাবাদিদের মতে ২০০০ রাজাকার সৈন্য, ৮০০ এর মতো বেসামরিক মারা যাবার ঘটনা উল্লেখ থাকলেও বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক মহলের হিসাব মতে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেসময় প্রায় দুই লক্ষ (প্রায় ২,০০,০০০)  বেসামরিক মানুষ মারা যায়। বলা বাহুল্য, এরা মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। 

উল্লেখ্য যে, তৎকালীন হায়দ্রাবাদে এশিয়ার বৃহত্তম পোলা গ্রাউন্ড ছিল বলে এই অপারেশনের কোড নেম দেয়া হয় “অপারেশন পোলো”। 

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী অভিযান শেষ হয় একই মাসের ১৭ তারিখে, যেদিন উসমান আলি খান মৃত্যু মিছিল ভারতীয় সেনাবাহিন্র কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ভারতের কংগ্রেসপন্থী সরকার এবিষয়ে  তার নমনীয়তার জন্য এখনো বহুত সমালোচিত।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: