সংগৃহীত
রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘আর না ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন, বিচারহীনতা: কোন পথে সমাধান?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার সম্পর্ক জড়িত থাকে। তার মতে, অপরাধীরা সাধারণত অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা লিঙ্গগত আধিপত্যের কারণে নিজেদের শক্তিশালী মনে করে এবং সেই অবস্থান থেকে অপরাধ সংঘটিত করে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী নাগরিক উদ্যোগ ‘আর না+’ আয়োজিত এই আলোচনায় তিনি বলেন, সমাজে নারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগ তোলার প্রবণতা থাকলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে একই ধরনের আচরণ দেখা যায় না। এই বৈষম্যমূলক মানসিকতাও অপরাধীদের উৎসাহিত করে।
রুমিন ফারহানা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে, যার বড় একটি অংশের শিকার শিশু। তবে সব ঘটনা সমান গুরুত্ব পায় না। কিছু ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় এলেও অনেক ভুক্তভোগীর ঘটনা জনসমক্ষে তেমনভাবে আসে না।
তিনি বলেন, কোনো অপরাধের বিচার পাওয়ার জন্য সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বা রাজনৈতিকভাবে আলোচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি ভুক্তভোগীর জন্য সমান গুরুত্ব ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ধর্ষণ প্রতিরোধে শিক্ষা, সচেতনতা ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বয়ঃসন্ধিকাল, শারীরিক পরিবর্তন এবং যৌনতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দেওয়া হয় না। ফলে তরুণদের একটি অংশ ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
তার মতে, পরিবার থেকেই ছেলে-মেয়ে উভয়কে শেখাতে হবে যে যৌন সহিংসতার দায় কখনো ভুক্তভোগীর নয়; দায় সম্পূর্ণ অপরাধীর। একই সঙ্গে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
মাদ্রাসাকেন্দ্রিক যৌন নির্যাতনের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসার প্রতি মানুষের বিশেষ আস্থা রয়েছে। সেই আস্থার জায়গায় যদি শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে তা শুধু অপরাধই নয়, বরং সামাজিক বিশ্বাসেরও বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি করে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা বলেন, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো অনেক সময় কেবল তখনই আলোচনায় আসে, যখন তা সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় স্থায়ী জবাবদিহি ব্যবস্থা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশ ও ফরেনসিক তদন্ত ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
তাসনিম জারা ধর্ষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, মামলার অগ্রগতি, বিলম্বের কারণ এবং নিষ্পত্তির সময়সীমা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
গোলটেবিল আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন এবং ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও বিচারহীনতা রোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
৪র্থ তলা, হাউজ# ২৭, রোড# ১ ব্লক# এ বনশ্রী , রামপুরা, ঢাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ইয়াছিন মিয়া
নিউজ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +880 1975681488
Email: sobarkothabdnews@gmail.com
©️২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || sobarkotha.com